ইসলামাবাদ/তেহরান — ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে শান্তি আলোচনা বজায় রাখতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, উভয় পক্ষের সামরিক হুমকি এবং পরস্পরবিরোধী শর্তের কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আলোচনা যেন পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে, সেই লক্ষ্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সম্প্রতি তেহরান সফরে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন।
পরস্পরবিরোধী প্রস্তাব ও অনড় অবস্থান: পাকিস্তানকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ও তেহরান নিজেদের প্রস্তাব বিনিময় করছে। ইরান সম্প্রতি একটি ১৪ দফার প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা সম্পদ ফেরতের দাবি জানানো হয়েছে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে কোনো আপস করবে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাল্টা প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ বছরের জন্য স্থগিত করা, মজুদকৃত ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো এবং পরমাণু স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছে। ইরান মার্কিন এই প্রস্তাবকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: আলোচনা চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে তাদের জন্য “সময় ফুরিয়ে আসছে” এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের “আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না”।
বাড়ছে সামরিক উত্তেজনার শঙ্কা: কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন করে সামরিক সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালীর কাছে তাদের মিসাইল সাইটগুলোর বেশিরভাগই পুনরায় সক্রিয় করেছে। অন্যদিকে, পেন্টাগনও ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের এই গভীর অবিশ্বাস এবং অনড় অবস্থানের কারণে যেকোনো সময় এই যুদ্ধবিরতি ভেঙে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।