তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা-৬:০০ পিএম

বিশ্বকাপ ঘিরে সরকারি মাঠে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

ঢাকার বনানী এলাকার ২৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত কামাল আতাতুর্ক পার্ক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) পরিচালিত একটি আধুনিক উন্মুক্ত পার্ক ও খেলার মাঠ। নগরকেন্দ্রিক সীমিত জনপরিসরের বাস্তবতায় পার্কটি নগরবাসীর খেলাধুলা, ব্যায়াম, হাঁটা এবং বিনোদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উক্ত পার্কে আবুল খায়ের টোবাকো কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে কনসার্ট এবং বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে তামাকজাত পণ্যের নাম, লোগো, ট্রেডমার্ক ও অন্যান্য ব্র্যান্ডিং প্রদর্শনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ছাড়া জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত সরকারি পার্ক বা খেলার মাঠ বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত জনপরিসর সংকুচিত হয় এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বর্তমান সরকার এ বছর ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ সংশোধনের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে। সংশোধিত আইনের ধারা ৫(গ) অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধারায় তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো দান, পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান কিংবা কোনো অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা বা আয়োজনের ব্যয়ভার বহন (স্পনসরশিপ) নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-এর নামে কোনো তামাক কোম্পানির নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক বা প্রতীক ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তাদের পৃষ্ঠপোষকতাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে এসব বিধান উপেক্ষা করে আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে তরুণদের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন স্থানে খেলা প্রদর্শনের নামে তামাকজাত পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণা চালানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে এসব আয়োজনে তামাকজাত পণ্যের বিক্রয়ও পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্ক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হলসহ বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রদর্শনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে আবুল খায়ের গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে তামাকজাত পণ্যের নাম, লোগো, ট্রেডমার্ক ও অন্যান্য ব্র্যান্ডিং প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের উদ্দেশ্য ও বিধানের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, সংশোধিত আইনের ধারা ৬(খ) অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের স্থানে তামাকজাত পণ্যের প্রচারণা ও বিক্রয় তরুণ প্রজন্মকে তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্ক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, পৃষ্ঠপোষকতা ও বিক্রয়ের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে জোটের পক্ষ থেকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

Share This News