জামালপুর, ১৪ ডিসেম্বর : দীর্ঘ প্রায় চার বছর তালাবদ্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় খুলে দেওয়া হলো জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলীর সরাসরি উদ্যোগ ও নেতৃত্বে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। এ উদ্যোগের ফলে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই প্রাণকেন্দ্র আবারও পাঠকসমাগমে মুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন স্থানীয় পাঠক, সংস্কৃতিপ্রেমী ও বুদ্ধিজীবীরা।
নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন না হওয়ায় ২০২২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় লাইব্রেরিটি। দীর্ঘ অবহেলায় প্রায় ৩৪ হাজার মূল্যবান বই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। পাঠক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লাইব্রেরি সংস্কার ও পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর নির্দেশনায় পুরো প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে, নতুন গোলটেবিল, চেয়ার স্থাপন করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে যাত্রা শুরু হওয়া এই লাইব্রেরির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫৯ সালে। ১৯৭৬ সালে বকুলতলা এলাকায় ২৯ শতাংশ জমির ওপর একতলা ভবন নির্মিত হয়। একসময় এটি ছিল শহরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র; কবিতা পাঠ, বইমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর থাকত প্রতিদিন।
লাইব্রেরির সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাযযাদ আনসারী বলেন, “প্রশাসনের উদ্যোগের অভাবে লাইব্রেরিটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সক্রিয় হস্তক্ষেপে এটি আবার চালু হওয়ায় বইপ্রেমীরা খুশি।”
আজীবন সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “দেড় শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী এই লাইব্রেরি চালু হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। জেলা প্রশাসক মহোদয় পাঠকদের কথা চিন্তা করে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, “লাইব্রেরিটি সবার জন্য উন্মুক্ত। আমরা পুরোপুরি সংস্কার করেছি। আবারও পাঠকসমাগমে মুখর হবে এটি, এটাই প্রত্যাশা। জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে, তবে সচল রাখতে পাঠক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের এগিয়ে আসতে হবে।”
এ উদ্যোগের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জামালপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।