ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধন

আজ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ব্যাপক সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশোধিত আইন স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ব্যবহার হ্রাস এবং তামাকপণ্য থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই সংশোধনীতে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করা হয়েছে যাতে ই-সিগারেট, ENDS (Electronic Nicotine Delivery Systems), HTP (Heated Tobacco Products), নিকোটিন পাউচসহ সকল উদীয়মান তামাক পণ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজন এবং ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যা আইন প্রয়োগকে আরও শক্তিশালী করবে।

আইনের সংশোধিত ধারা অনুযায়ী পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে জরিমানার পরিমাণ পূর্বের ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেটাই, ধারণক্ষমতা ও বাস্তবায়ন শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সব মাধ্যম, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ও OTT প্ল্যাটফর্মসহ, সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন বা প্রচারণা, এবং CSR কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে, যা শিশু এবং তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হবে।

আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার, সবকিছুই দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া কুম্ভী পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিড়ি উৎপাদন সম্পর্কিত পুরাতন অধ্যাদেশ (Bidi Manufacture Prohibition Ordinance, 1975) বাতিল করা হয়েছে। কুম্ভী পাতা বা টেন্ডু পাতার বিড়ি ব্যবহার করলেও জরিমানাসহ অপরাধী ঘোষণা করা হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫% জায়গা ব্যস্ত রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দিয়ে পূরণ করতে হবে এবং স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ব্যতীত তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব অপরাধ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

এই সংশোধনী আইন জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় ও যুগোপযোগী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত হচ্ছে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করবে বলে উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Share This News