৪ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ইরান দাবি করেছে যে তারা তাদের আকাশসীমায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে, ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং বৈরুত ও তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।
মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও নিখোঁজ ক্রুর সন্ধানে অভিযান ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ঈগল এবং একটি এ-১০ (A-10) ওয়ার্থগ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট ভূপাতিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অন্তত একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, স্পেশাল ফোর্সের সহায়তায় মার্কিন সামরিক বাহিনী অন্তত একজন পাইলটকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এফ-১৫ই বিমানের আরেকজন ক্রু সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিখোঁজ ওই মার্কিন ক্রুকে খুঁজতে মার্কিন রেসকিউ টিম এবং ইরানের সামরিক বাহিনী—উভয়েই পাল্লা দিয়ে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলি হামলা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে বেকা উপত্যকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করেছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের অস্ত্র ও শক্তিবৃদ্ধি ঠেকাতেই এই সরবরাহ পথটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এছাড়া, শনিবার ভোরে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে এবং ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে যে তারা তেহরানে “ব্যাপক পরিসরে” সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ট্রাম্পের হুমকি এবং যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা মাত্র শুরু হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পরবর্তীতে ইরানের অন্যান্য সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এরই মধ্যে, ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৪৮ ঘণ্টার একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তেহরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রেক্ষাপট গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এরই মধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে।
সুত্র -আল জাজিরা