খুলনা মহানগরীসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে আকস্মিক ও তীব্র বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিন কিংবা রাত— ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিশেষ করে এই প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের এই মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওজোপাডিকোর পরিসংখ্যানে বিদ্যুতের ঘাটতি
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ওজোপাডিকোর আওতাধীন খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুতের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গতকাল রবিবারের বিদ্যুতের চিত্র:
- রাত ৮টায়: মোট চাহিদা ছিল ৭৭৩ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যায় মাত্র ৬৭৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, ঘাটতি ছিল ১০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা অঞ্চলে ৭১ মেগাওয়াট এবং বরিশালে ২৯ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। শুধুমাত্র খুলনা মহানগরী ও জেলায় এই ঘাটতি ছিল সর্বোচ্চ ৩৬ মেগাওয়াট।
- দুপুর ১টায়: বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮১২ মেগাওয়াট, বিপরীতে বরাদ্দ মেলে ৭৪৪ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৬৮ মেগাওয়াট। এই সম্পূর্ণ ঘাটতিই ছিল খুলনা অঞ্চলে (বরিশালে সেসময় কোনো লোডশেডিং ছিল না)। দুপুরে শুধুমাত্র খুলনায় সর্বোচ্চ ২১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হয়।
তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের হাহাকার
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহ প্রভাবে বাসা-বাড়িতে টেকা দায় হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার নষ্ট হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর তীব্র গরমের কারণে বাসাবাড়ির আইপিএস বা চার্জার ফ্যানগুলোও ঠিকমতো চার্জ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিদ্যুতের এই ঘাটতি প্রসঙ্গে খুলনা অফিস গ্রিড সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কতদিন সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস এখনও পাওয়া যায়নি।