একটি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে খুলনা মহানগরীতে
লনা মহানগরী এলাকায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কেসিসি পরিচালিত খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একটি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে মহানগরীতে জাতীয় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি শিশুরা হাম ও রুবেলায় আক্রান্ত হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুততার সাথে শিশুদের টিকার আওতায় এনেছেন। শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে তিনি প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য মায়েদের প্রতি আহবান জানান এবং মহানগরীর একটি শিশুও যেন এ ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, রোগতত্ত্বের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক অর্পণা বিশ^াস, কেসিসি’র সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খানম, কেসিসি’র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: শহিদুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা-খুলনার উপপরিচালক মো: আকিব উদ্দিন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. মো: আরিফুর রহমান, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহজাহান, ইউনিসেফ-খুলনার ইপিআই স্পেশালিস্ট তাপস কুমার বিশ^াস ও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিল্যান্স ইমুনাইজেশন মেডিকেল অফিসার নাজমুর রহমান সজিব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাপসুল শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে ভূমিকা রাখে।
নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে ৪টি জোনে বিভক্ত করে সর্বমোট ৬’শ ৩০টি কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়া ৮০টি মোবাইল টিমও এ কাজে নিয়োজিত থাকবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১২ হাজার ৩’শ ৩৭ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৬’শ ৫৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে ৬২জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৪’শ ২০ জন ভলান্টিয়ার নিয়োজিত রয়েছে।

কেসিসি পরিচালিত খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজ আয়োজিত বৃক্ষ- রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু
———————————————————
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ অর্থাৎ আমরা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছি। লবনাক্ততা, তাপদাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছা¦স ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হচ্ছি। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে পাঁচ বছরে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেসিসিও আগামী ছয় মাসে মহানগরীতে পঞ্চাশ হাজার বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ রবিবার সকালে কেসিসি পরিচালিত খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসক বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষের পরিচর্যা, প্রত্যেকের বাড়ির আঙ্গিনাসহ আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ড্রেনে বর্জ্য না ফেলার জন্য সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই খুলনাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশব্যাপী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: শাহিদুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, বাজার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, লাইসেন্স অফিসার খান হাবিবুর রহমানসহ স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।