হাদি হামলা: পলাতক ফয়সালের বাবা-মাকে আটক করল র‍্যাব

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার মামলায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।মঙ্গলবার রাতে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মোসা. হাসি বেগম (৬০)। মঙ্গলবার ভোরে র‍্যাব-১০-এর একটি দল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

ঘটনার বিবরণ

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে বিজয়নগরের পানির ট্যাংকের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওসমান হাদি তখন রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে করে আসা আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি তার বাম কানের পাশে লাগে।

গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সর্বশেষ বিবৃতি অনুযায়ী, প্রাথমিক অবনতির পর হাদির অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি

র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ফয়সাল করিম রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তার বোন জেসমিন আক্তারের বাসায় যান। সেখানে তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন এবং একটি ব্যাগ নিয়ে আসেন। পরে তিনি তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইলের একটি ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি তার মা হাসি বেগমকে দেন।

ফয়সাল সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর তার বাবা-মা ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবলুর কেরানীগঞ্জের বাসায় যান এবং জুরাইন থেকে দুটি মোবাইল সিম কিনে ব্যবহার করেন।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ফয়সাল করিমের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর একটি বিল থেকে হামলায় ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ফয়সালের বোনের বাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ভরা ম্যাগাজিন ও একটি চাকু উদ্ধার করেছে র‍্যাব-২।

এ সময় ফয়সালের স্বাক্ষর করা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ২১৮ কোটি টাকা সমমূল্যের চেকও উদ্ধার করা হয়েছে।

আগের গ্রেপ্তারসমূহ

এর আগে ফয়সালের স্ত্রী পারভীন সামিয়া, বান্ধবী, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক আলমগীর শেখসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব আরও কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে।

মামলার তথ্য

পরিবারের সম্মতি নিয়ে গত রোববার রাতে পল্টন থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সন্দেহভাজনের পরিচয়

ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন এবং ২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। তার পুরো নাম ফয়সাল করিম দাউদ খান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি এবং তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য খুঁজছে।

ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গড়ে তোলা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক এবং আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Share This News