গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া আশুলিয়ার নৃশংসতম ঘটনার বিচারে আজ রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জন আসামির ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই রায়ের মাধ্যমে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় যা ঘটেছিল, তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণের প্রাণহানির পর তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, অভিযোগ অনুযায়ী একজন তখনও জীবিত ছিলেন—তার ওপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। এর আগের দিন আরও একজন শহীদ হয়েছিলেন। মোট সাতজনের মৃত্যুর এই মর্মান্তিক ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
১৬ আসামির মধ্যে আটজন এখন কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত এসপি মো. শাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন—আসামিদের মধ্যে একমাত্র তিনিই এই সাহস দেখিয়েছেন।
প্রসিকিউশন ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য হাজির করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খান। ৩১৩ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি তৃতীয় রায়, যা বিচারের গতি নিয়ে অনেকের মনে আশার সঞ্চার করেছে।
আজকের এই রায়ের জন্য শুধু ভুক্তভোগী পরিবারগুলোই নয়, পুরো জাতি অপেক্ষায় রয়েছে। যারা গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা।