একুশের আলোয় শহীদ মিনার: ভাষাশহীদদের স্মরণে লক্ষ কণ্ঠের নীরব অঙ্গীকার

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আবেগের মোহনায়। সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে সেই চিরচেনা বেদিমূলে — যেখানে ১৯৫২ সালের রক্তের দাগ আজও ইতিহাসের পাতায় অমলিন।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার সূচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বিএনপির নেতারা পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান। পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনারে আসেন তিন বাহিনীর প্রধান — সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

এরপর সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নাহিদ ইসলাম, এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আখতার হোসেইনসহ অন্যরা।

রাষ্ট্রীয় পর্বের সমাপ্তির পর শহীদ মিনার চত্বর উন্মুক্ত হয়ে যায় সাধারণ মানুষের জন্য। তখন থেকেই শুরু হয় মানুষের অবিরাম স্রোত। রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়। অনেকে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন — হাতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার আর ফেস্টুন নিয়ে। ভোরের আলোয় সেই দৃশ্য যেন বাংলার চিরন্তন প্রতিজ্ঞারই প্রতিচ্ছবি।

Share This News