নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা, ০৮:৫০ পিএম; ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
সম্প্রতি বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা) বহুজাতিক কোম্পানি “ফিলিপ মরিস’কে দেশে ক্ষতিকর “নিকোটিন পাউচ’কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটির পক্ষ থেকে বেজা- কর্তৃপক্ষকে এধরনের জনস্বাস্থ্যহানীকর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি। গবেষনায় প্রমাণিত যে, ই-সিগারেট/ভেপ, নিকোটিন পাউচ ইত্যাদি পণ্য প্রচলিত তামাকের মতই আসক্তি সৃষ্টিকারি এবং কিছু ক্ষেত্রে তামাকের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর। এটি মুখ ও মাড়ির ক্ষতি করার পাশাপাশি হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিন্তু ব্যবসা ও মুনাফা অর্জনের স্বার্থে কোম্পানিগুলো এ পণ্যগুলোকে “ধূমপান ছাড়ার উপায়”বা “কম ক্ষতিকর”প্রচার করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা “ই-সিগারেট” ও “নিকোটিন পাউচ” কে আসক্তিকর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে। পর ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম, রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ১১টি দেশ “নিকোটিন পাউচ’সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ করেছে এবং ৩৪টি দেশ কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটিকে নির্মুল করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফান্স, ইতালি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা ভারতসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশ ই-সিগারেট সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে এ ধরনের আসক্তি তৈরীকারী নেশা দ্রব্যর প্রচলন নেই। এ অবস্থায় বেজা এর এ ধরনের কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেশে নতুন নেশা দ্রব্যর দ্বার উন্মোচন করবে। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্যানুসারে বাংলাদেশে মানুষের চিকিৎসার পিছনে ব্যয়কৃত অর্থের ৭০% এর অধিক দিতে হয় নিজ পকেট থেকে । যা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাষ্ট্রের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরী। এমতাবস্থায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল, দেশে সবধরনের ই-সিগারেট/ভেপজাতীয় পণ্য ও নিকোটিন পাউচ এর উৎপাদন, বিপণন, সংরক্ষণ, আমদানি ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার আহবান জানান।