জাতীয় সরকারের প্রস্তাব নাকচ, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আত্মবিশ্বাসী বিএনপি

জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তার দল একাই সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট আসন পাবে।

“রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?”—দলীয় কার্যালয়ে বাবা-মায়ের ছবির সামনে বসে এই প্রশ্ন তুললেন তিনি।

প্রায় দুই দশকের নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে লন্ডন থেকে ফেরা তারেক রহমান জানান, বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। দলটি ইতিমধ্যে ২৯২টি আসনে প্রার্থী মাঠে নামিয়েছে।

২০২৪ সালের অস্থিরতায় পোশাকশিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে জামায়াত একটি ঐকমত্যের সরকার চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই পথে যেতে রাজি নয়। তারেক রহমান বরং বলেছেন, জামায়াত যদি পর্যাপ্ত আসন পায়, তাহলে তাদের “ভালো বিরোধী দল” হিসেবে দেখতে চান তিনি।

পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন—বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকবে না। “যারা আমাদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে দেশের জন্য যা উপযুক্ত, তা দেবে—তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব হবে,” বললেন তিনি। শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন এবং চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদার অবস্থান নিয়েছেন তারেক রহমান। শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতি করার বিষয়ে তিনি বলেছেন, “জনগণ যদি তাদের স্বাগত জানায়, তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।”

রোহিঙ্গা প্রশ্নেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রায় ১২ লাখ শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পক্ষে থাকলেও তিনি বলেছেন, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে থাকা স্বাগত।

জনমত জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও জামায়াত জোটের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষত হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া তরুণদের একটি দল এই জোটে রয়েছে, যা নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

Share This News