দুই দশকের অপেক্ষার অবসান — আজ ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাচ্ছেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজকের দিনটা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ যাত্রা শুরু করছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকার। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুধু একটি দলের ক্ষমতায় ফেরা নয়, এটি একটি প্রজন্মের অপেক্ষার সমাপ্তিও বটে।


কেমন ছিল নির্বাচন?

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে, দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করে।২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। এ ফলাফল দলের নিজের ইতিহাসেও নতুন মাইলফলক — ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি একাই পেয়েছিল ১৯৩টি আসন, এবার তা ছাড়িয়ে গেছে।

তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ দুটি আসনেই জয়ী হন। নিয়ম অনুযায়ী বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়ে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের এমপি হিসেবে শপথ নেবেন।


শপথের মঞ্চ এবার ভিন্ন

রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে না এবার। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।এটি নিছক একটি স্থান পরিবর্তন নয় — এটি একটি প্রতীকী বার্তাও বটে। সংসদকেই যে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু করা হবে, এই শুরুটা যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।

সকাল ১০টায় নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন?

এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা হবে আকারে তুলনামূলক ছোট এবং বৈচিত্র্যময়। অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ মুখ এবং টেকনোক্র্যাটদের জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ধর্ম, লিঙ্গ, নবীন-প্রবীণের বৈচিত্র্য রয়েছে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে যাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের সবাই জয়ী হয়েছেন।তবে চূড়ান্ত তালিকা এখনও কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেই সংরক্ষিত — আজ বিকেলের শপথের আগে পর্যন্ত সেটি প্রকাশ্যে আসবে না।


আন্তর্জাতিক মনোযোগও আছে

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ অনুষ্ঠানে ৬ দেশের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছেন।তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না — ওইদিন মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার বৈঠক রয়েছে।


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজকের দিনটি নানা কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে — প্রথম নির্বাচিত সরকার সংসদ ভবনে শপথ নেওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে এমন একজনের প্রধানমন্ত্রী হওয়া, যার বাবা ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং মা ছিলেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ এখন তাকিয়ে আছে — নতুন সরকার কথার সঙ্গে কাজ মেলাতে পারে কি না।

Share This News