সড়কে হতাহতদের স্মরণে চসিকে অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক: সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করার অঙ্গীকার

চট্টগ্রাম, ২০ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে সড়কে হতাহতদের স্মরণ ও নগরীর সড়ক নিরাপদ করে তুলতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সড়কে হতাহতদের স্মরণে বৈশ্বিক দিবস ‘ওয়ার্ল্ড ডে অফ রিমেমব্রান্স ফর রোড ট্রাফিক ভিকটিমস’ উপলক্ষে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) ও ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরি সহায়তায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের ২৫ জন গাড়িচালককে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানোর গুরুত্ব সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) মো. রুহুল আমিন লাবু ও বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক কে এম মাহবুব কবির। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের ইনিশিয়েটিভ কোঅর্ডিনেটর লাবিব তাজওয়ান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরি পরামর্শক আমিনুল ইসলাম সুজন। স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহম্মেদ।

সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) মো. রুহুল আমিন বলেন, অনিয়ন্ত্রিত গতি রোড ক্র্যাশের অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এজন্য সড়ক ও যানবাহন ভেদে সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি পরিবহন চালকদের সেই নির্দেশনা মেনে চালানোর আহ্বান জানান।

সভায় বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক কে এম মাহবুব কবির বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সড়কে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সড়ককে নিরাপদ করার মাধ্যমে মৃত্যু ও আহত হওয়া প্রতিরোধে বিআরটিএ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। সড়কে গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া এক্ষেত্রে একটি বড়ো উদ্যোগ। আমাদের চালক ও পথচারীদের সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তাহলেই আমরা সড়ককে নিরাপদ করতে পারবো।

সভা সঞ্চালক বিআইজিআরএস এর ইনিশিয়েটিভ কোঅর্ডিনেটর লাবিব তাজওয়ান দিবসটির গুরুত্ব ও প্রতিপাদ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রোডক্র্যাশে হতাহতদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ক্র্যাশ প্রতিরোধ করা যায়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দিবসটি পালন করা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর কারিগরি পরামর্শক আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘প্রতিভার মৃত্যু’ (lost talents)। রোড ক্র্যাশে শুধু সড়কে মানুষ মারা যায় না, তাদের সঙ্গে মেধা, আইডিয়া ও সমাজে তাদের সম্ভাব্য প্রতিফলন -সেটারও বিনাশ ঘটে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রোড ক্র্যাশে মারা যায় বেশি অল্পবয়সী, তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, যারা পরিবার ও সমাজে অনেকদিন ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সড়কে অকালমৃত্যুর কারণে তাদের সম্ভাব্য অবদান থেকে শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারই বঞ্চিত হয় না, একইসঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্র সম্ভাব্য সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতা থেকে বঞ্চিত হয়।

বৈঠকে রোড ক্র্যাশে পঙ্গুত্ববরণকারী অটোরিকশা চালক মো. রুবেল বলেন, ২০২১ সালে দ্রুতগতির একটি ট্রাক পিছেন থেকে আমার রিকশায় আঘাত করে। এরপরও ট্রাকচালক গাড়ি না থামিয়ে আরো ৪-৫শ মিটার টেনে নিয়ে যান। যার ফলে আমি আজ হাঁটতে পারি না। আমি চাই এমন পরিণতি আর কারো না হোক। এজন্য গাড়ি চালকদের নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানোর অনুরোধ জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন ইপসার মোরশেদ হাসান মোল্লা, বিআইজিআরএস এর এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনের মো. হেলাল উদ্দিন ও কমিউনিকেশন অফিসার মাহমুদুল হাসানসহ চসিকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও গাড়ি চালকগণ উপস্থিত ছিলেন।

Share This News