
খুলনা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের খুলনার সদস্য সংগঠন ‘সিয়াম’-এর উদ্যোগে ই-সিগারেটের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক খুলনা হুরে জান্নাতের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক, এডভোকেট মোঃ মাসুম বিল্লাহ। এসময় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন সিয়ামের পলিসি লিড কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হক।
এছাড়া, স্মারকলিপি প্রদানের পাশাপাশি খুলনার নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু, যা সরকারের নীতিগত অঙ্গীকারের অংশ। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে দ্রুত আইনে পরিণত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, ই-সিগারেটের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা বাতিলের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, তামাক ব্যবহারজনিত কারণে দেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অকাল মৃত্যু এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ই-সিগারেটকে “কম ক্ষতিকর” হিসেবে প্রচার করে তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়- ই-সিগারেটের আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহারের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৫ দ্রুত আইনে পরিণত করা এবং উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিশ্চিত করা।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় এনেছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে উল্লিখিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিয়ামের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান শাকিল এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মো: সাকিবুর রহমান।