ধর্মের নাম নিলেই কি সরকারি সড়ক ব্যক্তিগত সম্পদ হয়ে যায়? আইন কি তখন চোখ বন্ধ করে নেয়?
খুলনার ৭ নাম্বার ঘাট সংলগ্ন স্কিড ঘাট এলাকায় যা ঘটছে, তা নিছক একটি অবৈধ পার্কিং গ্যারেজের গল্প নয়। এটি রাষ্ট্রের প্রতি একটি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ — এবং সেই চ্যালেঞ্জে রাষ্ট্রের নীরবতা আরও বড় উদ্বেগের বিষয়।
আশরাফিয়া জামে মসজিদ কমিটি প্রধান সড়কে বাঁশের বেরিকেড দিয়ে মোটরসাইকেল পার্কিং পরিচালনা করছে। মসজিদ উন্নয়নের নাম করা হচ্ছে — অর্থ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু উদ্দেশ্য যাই হোক, পদ্ধতি সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকারি সড়ক দখল করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি — মসজিদ কমিটিকেও নয়।
প্রশ্নটা শুধু আইনের নয়, নৈতিকতারও। ধর্মের আবরণে জনভোগান্তি তৈরি করা কোনো পুণ্যের কাজ নয়। একজন ফার্নিচার বহনকারী শ্রমজীবী মানুষ যখন রাস্তায় আটকে পড়েন — এবং সেই বাধা সরাতে কারও কাছে অনুনয় করতে হয় — তখন সেটা মানবিক মর্যাদার অবমাননা। রাস্তা কোনো দলের, কোনো কমিটির বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। রাস্তা সকলের।
তিনটি জরুরি প্রশ্ন
০১ -কোন কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে প্রধান সড়কে বাণিজ্যিক গ্যারেজ পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে?
০২ -লঞ্চঘাট, সাত নম্বর ঘাট ও স্কিড ঘাটে তিনটি পুলিশ টহল দল থাকার পরেও এই দখল কীভাবে চলছে?
০৩ -অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না — এই সংস্কৃতি কি প্রশাসনে স্থায়ী হয়ে গেছে?
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কোনো অজ্ঞতার ফল নয় — এটি একটি সচেতন নীরবতা। কারণ ঘটনাটি প্রকাশ্য, প্রতিদিনের এবং ছবিসহ নথিভুক্ত। এই নীরবতা নিজেই একটি বার্তা দেয় — যে বার্তা সাধারণ নাগরিককে আরও অসহায় করে তোলে।
আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করছি। বেরিকেড সরানো হোক, দখল বন্ধ করা হোক এবং জনগণের রাস্তা জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলা যায় — সড়ক দখল করে অর্থ আদায় কোনো ধর্মীয় কাজ নয়; এটি আইনের লঙ্ঘন।
লেখক- সাকিব রহমান