মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ‘উইন্ডওয়ার্ড’ (Windward)-এর ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত রবিবার মাত্র ১২টি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে, যা তার আগের দিনের (৩৫টি জাহাজ) তুলনায় অর্ধেকেরও কম। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রণালীতে প্রবেশ করা আটটি জাহাজের মধ্যে পাঁচটিরই ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ (AIS) বা ট্র্যাকিং ডিভাইস ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা ছিল।
কিন্তু মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইরানের এই অবরুদ্ধ করার দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জলপথটি নিরাপদ রয়েছে এবং শনিবার অন্তত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ সেখান দিয়ে পার হয়েছে।
এখানে তথ্যের এক বিশাল ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ বেহরুজ বখতিয়ারির মতে, অনেক জাহাজ সম্ভবত ইরানি সামরিক বাহিনীর নজর এড়াতে নিজেদের ট্র্যাকিং সিস্টেম (AIS) বন্ধ রেখে ওমান উপকূল ঘেঁষে চলাচল করছে। মার্কিন বাহিনী হয়তো রাডারে ধরা পড়া এবং না পড়া—উভয় ধরনের জাহাজগুলোকেই তাদের গণনায় ধরেছে। এখানে মূলত দুটি দেশই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালাচ্ছে। ইরান দেখাতে চাইছে তাদের অবরোধ সফল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করতে চাইছে যে নৌপথ তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। যেহেতু মার্কিন সেন্টকমের দেওয়া এই ৫৫টি জাহাজের হিসেব স্বাধীনভাবে যাচাই করার কোনো উপায় নেই, তাই এই দাবির সম্পূর্ণ সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধ নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। গত বৃহস্পতিবার জাহাজের ট্রাফিক গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু শনিবার ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) লেবাননে ইসরায়েলের “অপরাধ” এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জলপথটি ফের বন্ধ ঘোষণা করে।
খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এতো বড় উত্তেজনার পরও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্টো ০.৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। পাশাপাশি জাপান (Nikkei), দক্ষিণ কোরিয়া (Kospi) এবং তাইওয়ানের শেয়ার বাজারগুলো বেশ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন ‘মেকানিজম’ তৈরির যে আশ্বাস ইরান দিয়েছে, সেটি বিনিয়োগকারী ও বাজারকে কিছুটা আশ্বস্ত করেছে।