খুলনায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনে মোবাইল কোর্ট, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

খুলনা, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬: তামাকজাত দ্রব্যের অবৈধ বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে খুলনা নগরীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক নারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অবৈধ বিজ্ঞাপন সামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

খুলনার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের নির্দেশে এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছের তত্ত্বাবধানে খালিশপুর থানাধীন মজগুনি বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসন, খুলনার উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপেন সাধক রনি। এ সময় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিজওয়ানুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

মোবাইল কোর্ট চলাকালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সংক্রান্ত বিধান পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় আবেদা সুলতানা (৪৫), মজগুনি, খালিশপুর, খুলনার নিজ বাড়িতে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে দোকানের বিলবোর্ড তৈরি ও মজুদ রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিলবোর্ডগুলো জাপান টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ-এর ‘ক্যামেল’ (Camel) সিগারেটের কালার ব্র্যান্ডিং অনুসরণ করে তৈরি করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় আবেদা সুলতানাকে দোষী সাব্যস্ত করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি নং ০৯/২০২৬। মামলার প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবু ইউসুফ, এসআই (সাব-ইন্সপেক্টর), খালিশপুর থানা, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মোবাইল কোর্টে প্রমাণিত হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিড়ি ও সিগারেট বিক্রির দোকানগুলোতে তামাক কোম্পানির কালার ব্র্যান্ড ব্যবহার করে অবৈধভাবে দোকান ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন, যা প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে আবেদা সুলতানাকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলেই জরিমানা আদায় করেন এবং সকল অবৈধ বিজ্ঞাপন সামগ্রী জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়। অভিযান বাস্তবায়নে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য এডভোকেট মাসুম বিল্লাহ ও কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হকসহ খালিশপুর থানার পুলিশ সদস্যরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

Share This News