খুলনায় তামাক নিয়ন্ত্রণে জেলা টাস্কফোর্সের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত।

খুলনা মহানগরীতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জেলা টাস্কফোর্স কমিটি। আজ জেলা প্রশাসন খুলনার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির তৃতীয় ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভায় এ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা প্রশাসক খুলনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাস। সভায় জানানো হয়, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা মহানগরীর চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেয়াল লিখনীর মাধ্যমে তামাকবিরোধী বার্তা প্রচার করা হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, সিটি কর্পোরেশন ও সিভিল সার্জনের আওতাধীন হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকের আশেপাশে যেসব দোকানে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় বন্ধে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্দেশনা জারি করা হবে।

আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় ধূমপান থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষক ও চিকিৎসকদের কর্মকালীন সময়ে ধূমপান না করার বিষয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা মানার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আগামী ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তামাক ও মাদকবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত এক বছরে তামাক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকরী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ও সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রতিমাসে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দের পাশাপাশি জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য অফিসের বিলবোর্ডগুলোতে তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে প্রচারণা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

সরকারি অফিসে ধূমপান বন্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের লক্ষ্যে, যারা অফিসে ধূমপান করেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনকে তার আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কাউন্সিলর অফিসগুলোতে ‘নো স্মোকিং’ সাইনবোর্ড ও স্বাস্থ্যবার্তাসংবলিত বিলবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করা হয়, যাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়। সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সহায় টাস্কফোর্স কমিটির সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share This News