বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সাভারের আমিনবাজারে। যেখানে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা পুলিশের, সেখানে খোদ পুলিশের এক কর্মকর্তাকেই সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার শিকার হতে হলো! এমন পরিস্থিতিতে জনমনে একটাই আতঙ্ক ও প্রশ্ন—যে দেশে পুলিশই নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কী হবে?
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় সামান্য এক তর্কের জেরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে নিহতের ছেলেও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কী ঘটেছিল শনিবার রাতে?
- তুচ্ছ ঘটনা থেকে সূত্রপাত: রাত ১০টার দিকে নিহতের নিজস্ব ছোট গার্মেন্টস কারখানার সামনে মালামাল বহনকারী একটি অটোরিকশা পার্কিং করা নিয়ে চালকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় এসআই আলতাফের।
- সংঘবদ্ধ ও দুঃসাহসিক হামলা: এই তর্কের জেরে রাত ১১টার দিকে ওই অটোচালক ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে ফিরে আসে এবং কারখানাটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পুলিশের পরিচয় থাকার পরও হামলাকারীদের মধ্যে কোনো ভয় বা দ্বিধা কাজ করেনি।
- নির্মম পরিণতি: নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা এসআই আলতাফ ও তার ছেলে আরিফকে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক পেটায়। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতেই আলতাফ হোসেন মারা যান।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় নিহত মো. আলতাফ হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত ছিলেন। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে আমিনবাজার এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পাশেই নিজস্ব জায়গায় তিনি একটি ছোট কারখানা গড়ে তুলেছিলেন।
পুলিশের পদক্ষেপ সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভোর সাড়ে ৪টায় যৌথ অভিযানে জহুরুল ইসলাম (৩০) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি।
রাস্তায় গাড়ি চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেবল পার্কিং নিয়ে তর্কের জেরে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা চরম উদ্বেগের। অপরাধীদের এই দুঃসাহস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলার বর্তমান অবস্থায় কেউই আর নিরাপদ নয়।