যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা: ১২ বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা তহবিল পাচ্ছে তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার পর ইরান তাদের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন (১২০০ কোটি) ডলারের তহবিল ফেরত পেতে যাচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনাকে ‘সফল’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। এই সমঝোতার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

তহবিলের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ভিন্ন মত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ছাড়কৃত এই অর্থ দিয়ে ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজাত পণ্য কিনবে।

তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেমমাতি ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কিনতে ইরান কোনোভাবেই বাধ্য নয়। চুক্তির প্রথম ৬ বিলিয়ন ডলার দিয়ে মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ওষুধ কেনা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের দাম ও মান ভালো হলে সেখান থেকেও কেনা হতে পারে। বাকি ৬ বিলিয়ন ডলার দিয়ে অন্যান্য নিষেধাজ্ঞামুক্ত যেকোনো পণ্য কেনা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তেল বিক্রিতে ছাড়পত্র গালিবাফ জানিয়েছেন, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানের তেল খাতের ওপর মূল নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। তবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং তেল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ‘ছাড়পত্র’ (Waiver) যুক্তরাষ্ট্র থেকে আদায় করতে সক্ষম হয়েছে ইরান।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে টোল-মুক্ত যাতায়াত ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক বৈঠকের পর ইরান জানিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আপাতত ‘টোল-মুক্ত’ বা বিনা ভাড়ায় জাহাজ যাতায়াত অব্যাহত থাকবে। যদিও গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় আর কখনোই ফিরে যাবে না এই প্রণালীর ব্যবস্থাপনা। প্রণালীতে যেকোনো ধরনের বিবাদ এড়াতে একটি হটলাইন এবং সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপনে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পাশাপাশি লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ইরান লেবাননে শান্তি ফেরাতে কাজ করার কথা বললেও, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে। তবে আশার কথা হলো, মার্চ মাসের পর এই প্রথম লেবাননে কোনো বিমান হামলা বা সংঘাত শনাক্ত করা যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ।

Share This News