ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান থেকে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে ১৪ দফা সম্বলিত একটি শান্তি প্রস্তাব। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখন একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে—হয় একটি অসম্ভব সামরিক অভিযান বেছে নেওয়া, অথবা ইরানের সাথে একটি ‘বাজে চুক্তি’ গ্রহণ করা।
সম্প্রতি ইরান এই ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অনাগ্রাসন চুক্তি (non-aggression pact), নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তাদের বন্দরগুলোর অবরোধ শেষ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন বলে তিনি মনে করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অবস্থানে কঠোরতা এবং ইরানের কৌশলগত নমনীয়তা প্রদর্শনের এই উদ্যোগের মাঝেও যুদ্ধের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাধারণ মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির নাবাতিহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে একজন নিহত এবং শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এছাড়া লেবাননের সিফিরা এলাকায় চিকিৎসা কেন্দ্রের পাশে চালানো আরেকটি বিমান হামলায় চার প্যারামেডিকসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির এই জটিল মোড়ে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনার ওপর বিশ্বের নজর থাকলেও, সামরিক তৎপরতা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রমাগত অস্থির হয়ে উঠছে।