ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০২৬:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কমাতে আজ রোববার থেকে সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) । একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে ।
নতুন মূল্যতালিকা
আজ রোববার থেকে কার্যকর নতুন মূল্য অনুযায়ী:
- ডিজেল: ১১৫ টাকা/লিটার (১৫ টাকা বৃদ্ধি)
- অকটেন: ১৪০ টাকা/লিটার (২০ টাকা বৃদ্ধি)
- পেট্রল: ১৩৫ টাকা/লিটার (১৯ টাকা বৃদ্ধি)
- কেরোসিন: ১৩০ টাকা/লিটার (১৮ টাকা বৃদ্ধি)
সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনা
বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় ফিলিং স্টেশনে ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়িয়ে মানুষের ভোগান্তি কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিপিসি। সংস্থাটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বাড়তি তেল সরবরাহ করতে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে মূল হলো ডিজেল, যা মোট জ্বালানি তেলের ৬৩ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সময়মতো জাহাজ আসতে না পারায় কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল ।
মজুত পরিস্থিতি
এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে ডিজেলের মজুত আছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন এবং ডিজেল নিয়ে আসা আরও চারটি জাহাজে ১ লাখ টনের বেশি মজুত যুক্ত হচ্ছে । এছাড়াও আরও ৮০ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে যা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।
অকটেনের ক্ষেত্রে, দেশে সব মিলে ৪৫ হাজার ৮১৯ টন মজুত করার সক্ষমতা রয়েছে এবং ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪৮৪ টন মজুত ছিল। সম্প্রতি একটি জাহাজে ২৫ হাজার টন অকটেন এসেছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এক বছরের তুলনায় পরবর্তী বছরে ৪ থেকে ৫ শতাংশের বেশি চাহিদা বাড়ার কথা নয়। বাজারে যে অস্বাভাবিক চাহিদা দেখা যাচ্ছে, তা আসলে যৌক্তিক নয় । তবে মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি বিবেচনা করে সরবরাহ বাড়ানোর কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। বিশ্ববাজারে দামও বাড়ে জ্বালানি তেলের এবং একপর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় ।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন ব্যয় এবং সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ের ব্যয়েও নতুন করে চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং জনভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে সারাদেশে।
সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী জুন পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।