২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বড় পরিসরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসির বৃহৎ পরিচ্ছন্নতা অভিযান: জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগ

মহানগরীতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ হোস্টেল ও এর আশেপাশের এলাকায় এক ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে। শনিবার সকালে পরিচালিত এই বিস্তৃত অভিযানটি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিরালা মোড় পর্যন্ত এলাকা জুড়ে চালানো হয়।

এই উদ্যোগটি মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলমান তিন মাসব্যাপী দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের একটি অংশ। এই কর্মসূচির আওতায় কেসিসি নগরজুড়ে নিয়মিত এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শনিবার সকালে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু উপস্থিত থেকে এই অভিযানের অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শন করেন।

অভিযান চলাকালে কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বড় দল কঠোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়। তারা কলেজ হোস্টেলের পাশের পুকুর থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে। পাশাপাশি জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করে মশার সম্ভাব্য প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কারিগরি সহায়তায় ব্যাপকভাবে মশক নিধন ওষুধ বা রিপেলেন্ট স্প্রে করা হয়।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সদ্য পরিষ্কার করা কলেজ পুকুরটির ব্যবহার নিয়ে একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, “পুকুরের পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলাফলে পানি ব্যবহারের উপযোগী ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে, কেসিসি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাঁতার ও অন্যান্য শারীরিক কসরতের জন্য পুকুরটি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনক্রিজিং অ্যানালাইসিস মুভমেন্ট (SEIAM)-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। একটি সুস্থ ও সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কোনো বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের সুরক্ষায় আমাদের সংগঠন SEIAM সবসময় এ ধরনের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে।”

অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি আসিফ আহমেদ ডেঙ্গু প্রতিরোধে কারিগরি দিকগুলোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে হলে এডিস মশার প্রজননস্থলগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। আজকের এই অভিযানে কারিগরি সহায়তা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় WHO ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগে পাশে থাকবে।”

শনিবারের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সফল বাস্তবায়ন মূলত সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এই কার্যক্রমে কেসিসি কর্মকর্তা, হেলদি সিটি ফোরামের সদস্য, বিডি ক্লিনের প্রায় ৫০ জন নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবক, SEIAM-এর স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন পেশার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ বাসিন্দারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

Share This News