নড়াইল সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর পাচুড়িয়াপাড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক রবিউল শিকদার পলাতক রয়েছেন। এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ওই শিশুর নাম জান্নাতুল। সে রামচন্দ্রপুর পাচুড়িয়াপাড়া গ্রামের মফিজুর রহমানের মেয়ে।
যেভাবে উদ্ধার হলো মরদেহ পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৬টার পর থেকে জান্নাতুলকে তার পরিবারের সদস্যরা কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশী আতিয়ার শিকদারের ছেলে রবিউল শিকদারের ঘরের ভেতর শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। পরিবারের অভিযোগ, খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু জান্নাতুলকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় রবিউল। এরপর সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে সে পালিয়ে যায়।
পরে স্বজনরা জান্নাতুলকে দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য নড়াইল সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ আকবর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের মৃতদেহ আনা হয়। আমরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহত শিশুর শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
পুলিশের পদক্ষেপ ও অভিযান খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান বলেন, “রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এটি অত্যন্ত নৃশংস ও অমানবিক একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা প্রাথমিকভাবে আসামিকে শনাক্ত করতে পেরেছি। অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং তাকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তারে আমাদের সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।