সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে খুলনার ৮টি খেয়াঘাট ইজারা দিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ

সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ উপেক্ষা করে খুলনার রূপসা ঘাটসহ মোট ৮টি খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে পারানি আদায় করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটির খুলনা কার্যালয় এই ইজারা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

জানা গেছে, ঘাটগুলোর ইজারা প্রদানকে কেন্দ্র করে বিআইডব্লিউটিএ এবং খুলনা জেলা পরিষদের মধ্যে ২০১৩ সাল থেকে একটি আইনি বিরোধ চলছে। মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পূর্ণাঙ্গ শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এই আইনি জটিলতার মধ্যেই বিআইডব্লিউটিএ-এর খুলনা নদীবন্দরের অন্তর্গত ৮টি ঘাট— রূপসা ঘাট, কাস্টম ঘাট, কালীবাড়ী ঘাট, মহেশ্বরপাশা-দৌলতপুর ফেরিঘাট, হার্ডবোর্ড/চন্দনীমহাল ফেরিঘাট, এজাঙ্ঘাট এবং ব্যারাকপুর ঘাটে বর্তমান ইজারাদারকে মাসিক ভিত্তিতে কার্যাদেশ প্রদান করা হচ্ছিল।

বর্তমান ইজারাদারের একটি আবেদনের (সিপি নং-৩১৫৮/২০২৪) প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত ঘাটগুলো পরিচালনায় প্রথমে আট সপ্তাহের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার নির্দেশ দেন, যা পরবর্তীতে আরও বর্ধিত হয়। আদালতের এই আদেশ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নতুন ইজারা কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আদালত অবমাননার শামিল।

তা সত্ত্বেও বিআইডব্লিউটিএ-এর খুলনা কার্যালয় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য এই পয়েন্টগুলোর ইজারা প্রদান শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে বর্তমান ইজারাদার গত ২৩ এপ্রিল পুনরায় চেম্বার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ইজারা কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নতুন অর্থবছরের ইজারা কার্যক্রম আরও আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ, খুলনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইজারা কার্যক্রমের ওপর সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের আদেশের কথা তিনি শুনেছেন, তবে আদেশের কপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এসে পৌঁছায়নি।

Share This News