যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের ওলটপালট ঘটে গেছে। আকস্মিক ও নাটকীয় এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ভূমিধস জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও পুনরুদ্ধার করেছে দলটি।
হোয়াইট হাউসের জন্য এই ফলাফল এক কঠিন রাজনৈতিক বাধার সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর বিরোধীদের হাতে আইন প্রণয়নের চাবিকাঠি থাকায়, নীতিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন, বিচারক নিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল পদগুলোতে মনোনয়ন অনুমোদনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তাঁর প্রশাসন।
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতার পালাবদল
১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটে অন্তত ৫৩টি আসন নিশ্চিত করে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে জয় তুলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে টেক্সাসে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে জেমস তালারিকো, নর্থ ক্যারোলাইনায় মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে রয় কুপার এবং ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউনের জয় অন্যতম আলোচিত অঘটন।
অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদে ২২৪টি আসনে জয় পেয়ে আরামদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। দলটির নেতা হাকিম জেফরিস স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।
ধূলিস্যাৎ হলো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি
এই পরিবর্তনের ঢেউ শুধু ওয়াশিংটনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রিপাবলিকানদের চিরস্থায়ী শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে দীর্ঘদিনের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসা। ওহাইওতে বিবেক রামাস্বামীকে হারিয়ে গত দুই দশকে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম ডেমোক্র্যাট গভর্নর হয়েছেন অ্যামি অ্যাক্টন, এবং জর্জিয়ায় ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন কেইশা ল্যান্স বটমস।
ক্ষমতার এই পালাবদলের ধারায় কংগ্রেসে পা রাখছেন নতুন কিছু মুখ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মিশরিয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক ও সাবেক সেনা সার্জন আদম হামাওয়ি, যিনি সম্প্রতি গাজায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
এই ভরাডুবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি ব্যালটে ছিলাম না। যদি থাকতাম, তবে আমরা ভূমিধস জয় পেতাম।”
ওয়াশিংটন এখন একটি বিভক্ত সরকার এবং তীব্র আইনগত স্থবিরতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই রাজনৈতিক ভূকম্পনের রেশ ক্যাপিটল হিলের সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত অনুভূত হবে।