ডিএনসিসি সড়ক নিরাপত্তায় ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের সঙ্গে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি–এর আওতায় সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের সড়ক নিরাপত্তায় বৈশ্বিক উদ্যোগ সড়কে অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব প্রতিরোধে ঘোষিত অঙ্গীকারের অংশ ডিএনসিসি ঢাকা উত্তর এলাকার সড়ক নিরাপদ করতে কাজ করবে। বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতে স্পেনের মাদ্রিদ শহরে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ ও অ্যাসপেন ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘সিটি‌ল্যাব ২০২৬’–অনুষ্ঠানে ব্লমবার্গ ফিলানথ্রপিজ এর প্রতিষ্ঠাতা মাইক ব্লুমবার্গ বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ঢাকা উত্তর সিটিতে নিরাপদ সড়ক ডিজাইনসহ সড়ককে নিরাপদ করার প্রচেষ্টা জোরদার হবে।

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ রোড ক্র্যাশে মরা যায়—এর মধ্যে বিআরটিএ’র হিসাব মতে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশেই মৃত্যু হয় ,৪৯০ জনের। এছাড়া, আরও ২ থেকে ৫ কোটি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন, যাদের অনেকেই আজীবন পঙ্গুত্বের শিকার হন। এসব অকালমৃত্যু ও পঙ্গুত্বের অধিকাংশই দুর্ঘটনাজনিত নয়; বরং দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনা, যেমন অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, মানহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘণ এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর ফল।

ঢাকা উত্তরে সড়ক নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রোড সেফটি সিচুয়েশন রিপোর্ট ২০২২–২৩ অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকার সড়কে ৫৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৬% পথচারী, ২৪% মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮% রিকশার যাত্রী। মৃত্যুর অধিকাংশই ২০–৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ঘটেছে, যা সবচেয়ে উৎপাদনশীল সময়ে অকাল মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। দিনের তুলনায় রাতের সড়কে প্রাণহানি বেশি হয়েছে। বাস ও ট্রাকের অতিরিক্ত গতির কারণে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, “ঢাকার সড়কে রোড ক্র্যাশে নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি পথচারী। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই নগরবাসীর জন্য আরও নিরাপদ ও সহজলভ্য হাঁটার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কমাতে এবং নাগরিকদের জন্য আমাদের সড়কগুলোকে আরও নিরাপদ করতে আমরা ব্লুমবার্গের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য ঢাকা শহরকে সবার জন্য নিরাপদ সড়কের একটি নগরীতে রূপান্তর করা।”

বাংলাদেশের ঢাকা উত্তর সিটিতে এই বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা উদ্যোগের মাধ্যমে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা নীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, তথ্য ও নজরদারি ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত গণযোগাযোগ কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা হবে। পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ডিএনসিসি । বাংলাদেশের ঢাকা উত্তর ও চট্টগ্রাম শহর-সহ বিশ্বের ১৩টি দেশ এবং ৩০টিরও বেশি শহরে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি আয়তন (১৯৬.২২ বর্গকিলোমিটার) ও জনসংখ্যার (প্রায় ৬০ লক্ষ) দিক থেকে ডিএনসিসি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও জনবহুল এবং জনঘনত্বপূর্ণ (প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৯,১৮১ জন) শহর। গবেষণা মতে, ঢাকা শহরের সড়কে ২০ হতে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মৃত্যুহার বেশি। তাই শহরের সড়ককে নিরাপদ করতে ডিএনসিসি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

Share This News