উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ৩টি প্রধান নদীর পানি ৫টি জেলার ৫টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভারতের আসাম, মেঘালয় এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে দেশের বেশ কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে
রবিবার (১২ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কোন ৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে ৩টি নদীর পানি ৫টি স্টেশনে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে:
- সাঙ্গু নদী: বান্দরবান স্টেশন (বান্দরবান) এবং দোহাজারী স্টেশন (চট্টগ্রাম)।
- কুশিয়ারা নদী: মারকুলি স্টেশন (সুনামগঞ্জ) এবং ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশন (সিলেট)।
- সোমেশ্বরী নদী: কলমাকান্দা স্টেশন (নেত্রকোণা)।
অঞ্চলভিত্তিক বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস
১. সিলেট ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে।
- বন্যার অবনতি: কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে এবং সুরমা নদীসংলগ্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
- নতুন প্লাবনের শঙ্কা: সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
- পরিস্থিতির উন্নতি: গত ২৪ ঘণ্টায় মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় এসব নদীর পানি আরও কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
২. চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
- প্লাবনের ঝুঁকি: আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
- সাময়িক প্লাবন: এ সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
- পরিস্থিতির উন্নতি: আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়ে নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
৩. রংপুর ও উত্তরাঞ্চল
- গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল আছে।
- বন্যার সতর্কতা: আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এসব নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।