মহাখালীতে মোবাইল কোর্ট: ‘নো স্মোকিং’ সাইনেজ না থাকায় দুই বাসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২৬: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে বুধবার একটি ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে পাবলিক পরিবহনে আইন অনুযায়ী দৃশ্যমান স্থানে ‘নো স্মোকিং’ সাইনেজ না থাকায় ইউনাইটেড পরিবহনের দুটি বাসকে পৃথকভাবে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ মোবাইল কোর্টে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ সাইফুন্নাহার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযানকালে মহাখালী বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন পাবলিক পরিবহন তদারকি করা হয়। এ সময় ইউনাইটেড পরিবহনের দুটি বাসে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ‘নো স্মোকিং’ সাইনেজ প্রদর্শন না করার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।

পরে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮ অনুযায়ী বাস দুটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিটি বাসকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

আইন অনুযায়ী পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যাত্রীদের দৃশ্যমান স্থানে ধূমপানবিরোধী সতর্কতামূলক ‘নো স্মোকিং’ সাইনেজ প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। গণপরিবহনে এই বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং ও আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকার সাব-ইন্সপেক্টর মো. সোহেল রানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ অব সোসাইটি (ডাস্)-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রতিনিধিগণ।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ধূমপানমুক্ত পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহন নিশ্চিত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং গণপরিবহনে ধূমপানবিরোধী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় পরিচালিত একটি মোবাইল কোর্টেও পাবলিক পরিবহনে ‘নো স্মোকিং’ সাইনেজ না থাকায় দুটি লঞ্চের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সদরঘাটের ওই অভিযানে ধূমপানের দায়ে একজনকেও জরিমানা করা হয়। ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত এসব অভিযান গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Share This News