খুলনার খালিশপুর এলাকায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নে গঠিত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে তামাক কোম্পানির বিভিন্ন প্রচারণামূলক সামগ্রী জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে জাপান টোবাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই)-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সামগ্রী, গিফট বক্স ও ব্র্যান্ডিং উপকরণ জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। অভিযানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) ২০২৬ আইন অনুযায়ী তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কোম্পানি এখনও নানা কৌশলে প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তরুণদের তামাকাসক্তি থেকে রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী খুলনা জেলা প্রশাসনের কর্তব্যরত সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান।
জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা বলেন, তামাক কোম্পানির প্রচারণামূলক কার্যক্রম শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মোবাইল কোর্টের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তামাকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার হলে তরুণ সমাজকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৬ মে কুয়েটে “Protiddhoni Kuet”-এর সহযোগিতায় “Let’s Vibe” শিরোনামে একটি কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন পোস্টে তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, এ ধরনের আয়োজনের আড়ালে তামাক কোম্পানিগুলো তরুণদের লক্ষ্য করে নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ ভোক্তা তৈরির কৌশল বাস্তবায়ন করে থাকে।


বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে তামাক কোম্পানিগুলো সরাসরি বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে কনসার্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাইফস্টাইল ক্যাম্পেইন ও যুবসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে পরোক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ধূমপান ও ই-সিগারেট ব্যবহারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধিত) ২০২৬-এ তামাকপণ্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন এবং পৃষ্ঠপোষকতার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তামাকমুক্ত রাখার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনাও বিদ্যমান।
তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চা ও সুস্থ নেতৃত্ব বিকাশের স্থান। সেখানে তামাক কোম্পানির সম্পৃক্ততায় আয়োজিত যেকোনো কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে কুয়েট প্রশাসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট “Let’s Vibe” কনসার্টের মাধ্যমে তামাক কোম্পানির সম্ভাব্য প্রচারণা কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।
তরুণদের তামাকাসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের করপোরেট প্রচারণা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।