এক নজরে সংবাদের মূল অংশ:
- কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণ: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে।
- স্ট্রাইকারদের দ্বৈরথ: আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই গোলমেশিন—হ্যারি কেইন (৭ গোল) ও আর্লিং হালান্ড (৬ গোল)।
- কেইনের মূল্যায়ন: হালান্ডকে ‘শারীরিকভাবে দানব ও গোলমেশিন’ আখ্যা দিলেও দুজনের খেলার ধরনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বললেন ইংলিশ অধিনায়ক।
স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এক জমজমাট ও হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী ও গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই দলের দুই তারকা স্ট্রাইকার—ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড।
চলমান বিশ্বকাপে এই দুই গোলমেশিনই রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। আট গোল নিয়ে কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও, ঠিক তাদের পেছনেই নিঃশ্বাস ফেলছেন কেইন ও হালান্ড। এখন পর্যন্ত ৭ গোল করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক কেইন, আর হালান্ডের ঝুলিতে রয়েছে ৬টি গোল। কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াই শেষে অন্তত একজনের বিশ্বকাপ স্বপ্নের যে সলিল সমাধি ঘটবে, তা নিশ্চিত।
‘হালান্ড একটা দানব, গোলমেশিন’
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অবধারিতভাবেই কেইনের দিকে প্রশ্ন ছুটে আসে—বর্তমান ফর্মে দুজনের মধ্যে কে বেশি সেরা? তবে এমন অস্বস্তিকর ও সরাসরি তুলনা খুবই কৌশলে এড়িয়ে গেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। বরং প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারকে প্রশংসায় ভাসিয়ে কেইন বলেন, “এর উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে সত্যিই অসম্ভব। প্রথমত, আমি মনে করি আমরা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের খেলোয়াড়। আমাদের দুজনকে স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা হলেও সত্যি বলতে মাঠে আমাদের ভূমিকা অনেকটাই ভিন্ন দুটি পজিশনের মতো।”
হালান্ডের ফিনিশিং ক্ষমতার প্রশংসা করে কেইন আরও বলেন, “আর্লিং এক কথায় অসাধারণ। ওর গোল করার রেকর্ডই কথা বলে। শারীরিকভাবে ও একটা মেশিন, রীতিমতো দানব! ওর ফিনিশিং বিশ্বমানের এবং ওর পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেয় ও কতটা ভয়ঙ্কর।”
পরিসংখ্যান ও খেলার ধরনে ভিন্নতা
চলতি মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও জাতীয় দলের জার্সিতে হ্যারি কেইন করেছেন অবিশ্বাস্য ৭৩টি গোল। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে টানা চার মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জেতা হালান্ড করেছেন ৪৬ গোল।
নিজের খেলার ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেইন বলেন, “আমি নিজেকে একটু ভিন্ন ধাঁচের খেলোয়াড় মনে করি। যদিও আমিও প্রচুর গোল করি, তবে আমি নিচে নেমে বল স্পর্শ করতে এবং সতীর্থদের সাথে খেলার বিল্ড-আপে জড়িত থাকতে বেশি পছন্দ করি। তবে হ্যাঁ, প্রয়োজনে দলের জন্য একজন পুরোদস্তুর ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবেও খেলতে পারি। তাই আমাদের দুজনের মধ্যে তুলনা করার মতো কোনো বিষয় আছে বলে আমি মনে করি না।”
মহারণের অপেক্ষা
ম্যাচে প্রতিপক্ষ হালান্ডকে কেমন দেখতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখে কেইন বলেন, “খেলোয়াড় ও পেশাদার অ্যাথলেট হিসেবে আমি তাকে প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করি। তবে অবশ্যই আশা করব, কালকের ম্যাচে সে যেন মাঠের ভেতর একদম ‘চুপচাপ’ থাকে! তার সাম্প্রতিক ফর্মই তার সক্ষমতা প্রমাণ করে, সে সত্যিই একজন দুর্দান্ত ফুটবলার।”
এখন দেখার বিষয়, কোয়ার্টার ফাইনালের এই মহাদ্বৈরথে শেষ হাসি হাসেন কে—অভিজ্ঞ হ্যারি কেইন, নাকি তরুণ গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড!