জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করুন, শিশু ও তরুণদের রক্ষা করুন

ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করুন, শিশু ও তরুণদের রক্ষা করুন— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে খুলনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর ৯ অক্টোবর বাংলাদেশে তামাক বিরোধী জোটের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ‘জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস’ পালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এবং সিয়াম (SEIAM)-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভয়ংকর উদ্বেগের বিষয় হলো, অল্প বয়সী স্কুল-কলেজপড়ুয়া ব্যবহারকারীরা এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানে না। আধুনিক ও স্মার্ট ডিজাইনের কারণে অভিভাবক বা শিক্ষকরা বুঝতে পারছেন না, তাদের সন্তান বা শিক্ষার্থী পণ্যটি ব্যবহার করছে। বিভিন্ন স্থান ও অনলাইন মাধ্যমে/প্লাটফর্মে সহজলভ্য হওয়ায় শিশু-কিশোররা অল্প বয়সেই নিকোটিনের সংস্পর্শে আসছে। এখনই ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

২০২৫ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় “আমদানি নীতি আদেশে” ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে সংশোধিত “আমদানি নীতি আদেশ”-এর গেজেটে ২৮টি পণ্য নিষিদ্ধ করা হলেও তালিকায় ই-সিগারেট রাখা হয়নি। একইভাবে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা হলেও বর্তমান আইনে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, নিকোটিন পাউচ ও অন্যান্য ইমার্জিং তামাক/নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করার কোনো বিধান নেই। ফলে এসব নতুন নিকোটিন পণ্যের বিষয়ে আইনগত শূন্যতা তৈরি হয়েছে ।

স্বাস্থ্যহানিকর এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয়, বিপণন, বিতরণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট আইনগত ব্যবস্থা ও কার্যকর নিষেধাজ্ঞা জরুরি। বাজার সম্প্রসারণের আগেই তরুণদের সুরক্ষায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪২টি দেশ ঊঘউঝ-এর বিক্রয় নিষিদ্ধ এবং ১৩৩টি দেশ ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ করেছে। এমতাবস্থায় জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আমাদের সুপারিশ

১. ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে সুরক্ষায় যথাযথ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, মজুত, বিক্রয়, বিজ্ঞাপন, বিপণন, বিতরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে ।

২. শিশু-কিশোর ও তরুণদের রক্ষায়, খেলার মাঠ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে সকল ধরনের নেশাজাতীয় পণ্য (ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট) বিক্রয় নিষিদ্ধ করতে হবে ।

৩. “আমদানি নীতি আদেশ”-এর গেজেটে নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও ঊঘউঝ অন্তর্ভূক্ত করতে হবে ।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন সিয়াম (SEIAM)-এর নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রোগ্রাম অফিসার (NCD-MH) মো. আসিফ আহমেদ।

এছাড়াও সিয়াম (SEIAM)-এর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মসূচিতে অংশ নেন মো. শাকিল এবং সাকিব রহমান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন:

  • অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
  • আইনজীবী আয়াশীন নবী ডলি, সুপ্রীম কোর্ট
  • আইনজীবী মো. জাহিদুর রহমান, সুপ্রীম কোর্ট
  • শেখ ওবায়েদুর রহমান সৈকত, সেফগার্ডিং ফোকাল পারসন, ডাস, ঢাকা
  • অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান, জজ কোর্ট, খুলনা
  • অ্যাডভোকেট নাসরিন আক্তার নিপা, জজ কোর্ট, খুলনা
  • অ্যাডভোকেট ইফতেখার আহমেদ সজীব
  • অ্যাডভোকেট রিফাত সুলতানা, জজ কোর্ট
  • আইনজীবী মো. আসলাম হোসেন, জজ কোর্ট, খুলনা
  • আইনজীবী খন্দকার শাহারুখ হোসেন, জজ কোর্ট, খুলনা

সভায় বক্তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে সব ধরনের তামাক ও নেশাজাতীয় পণ্য বিক্রি অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণার জোর দাবি জানান।

Share This News