যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত ওষুধ রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য একটি বড় সুখবর। যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ (স্পেশালটি ড্রাগস) এবং এর প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা উপাদান রপ্তানির ক্ষেত্রে এখন থেকে আর ‘এড ভ্যালোরেম’ বা মূল্যানুপাতিক শুল্ক গুনতে হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই বিশেষ শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাওয়া বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব শিল্প ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ঘোষণা জারি করেছিলেন। ওই নির্দেশনায় পেটেন্টকৃত ওষুধ, বায়োলজিকস এবং এর কাঁচামাল বা উপাদানের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলো বিশেষায়িত ওষুধের ক্ষেত্রে সেই শুল্কের আওতামুক্ত থাকছে।

সব ওষুধে মিলবে না এই সুবিধা মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া ঢালাওভাবে সব ধরনের ওষুধের ওপর এই শূন্য-শুল্ক সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। সুবিধাটি কেবল সুনির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির বিশেষায়িত ওষুধ ও এগুলোর উপাদানের ক্ষেত্রেই পাওয়া যাবে।

শুল্ক ছাড়যোগ্য এসব পণ্যের তালিকায় রয়েছে—দুর্লভ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ (অরফান ড্রাগস), পারমাণবিক ওষুধ (নিউক্লেয়ার মেডিসিন), প্লাজমা থেকে উৎপাদিত থেরাপি, প্রজনন বা ফার্টিলিটি সংক্রান্ত ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস। এছাড়া রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকির মুখে ব্যবহৃত চিকিৎসা সামগ্রী এবং প্রাণিস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পণ্যও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত।

তালিকায় রয়েছে যেসব দেশ বাংলাদেশ ছাড়া এই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া অন্য ১৯টি দেশ ও অঞ্চল হলো—ভারত, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভেদর, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম।

শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত দুটি শর্তের ভিত্তিতে এই সুবিধা মিলবে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোনো বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে, এমন দেশ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, পণ্যটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের ‘জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা’ মেটাতে সক্ষম হয়।

যেসব পণ্য এই ‘জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা’র আওতায় যোগ্যতা অর্জন করবে, সেগুলোর অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে।

কিছু জরুরি পরিভাষা ও সংশোধন বিশ্ব শুল্ক সংস্থার (ডব্লিউসিও) তথ্য অনুযায়ী, ‘এড ভ্যালোরেম’ শুল্ক হলো এমন এক ধরনের কর, যা আমদানিকৃত পণ্যের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতাংশের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়।

মার্কিন বিজ্ঞপ্তিতে আরও পরিষ্কার করা হয়েছে যে, সাধারণ বা জেনেরিক ওষুধ এবং এগুলোর উপাদানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ২৩২’-এর ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্কের আওতাভুক্ত হবে না। মূল ঘোষণাপত্রের কারিগরি দিক সংশোধন করে জেনেরিক ওষুধের পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যেখানে পেটেন্টহীন প্রাণিস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পণ্যগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একই সাথে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেলস’ বা ওষুধ সামগ্রী বলতে চূড়ান্ত প্রস্তুতকৃত ওষুধ, এর সক্রিয় উপাদান (এপিআই) এবং উপাদানের মূল প্রারম্ভিক কাঁচামালকেও (কি স্টার্টিং মেটেরিয়ালস) বোঝানো হবে।

Share This News