খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘লোকাল অ্যাকশন ফর লেড-ফ্রি কমিউনিটিস: ইয়ুথ-লেড সল্যুশন ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত

খুলনা: সিসা দূষণ মোকাবিলায় এবং এই বৃহৎ চ্যালেঞ্জকে স্থানীয়ভাবে সমাধানের লক্ষ্যে গতকাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হলো “লোকাল অ্যাকশন ফর লেড-ফ্রি কমিউনিটিস: ইয়ুথ-লেড সল্যুশন ওয়ার্কশপ”। পিওর আর্থ বাংলাদেশ-এর সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালায় বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা একঝাঁক আগ্রহী তরুণ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেইম (SEIAM)-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মো. মাসুম বিল্লাহ।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ঐতিহাসিক পরিবেশগত সংকটগুলো নিয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করে তৃণমূল পর্যায়ের পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয় এই আয়োজনে। তরুণরা স্থানীয় পর্যায়ে সিসা দূষণের বাস্তব উৎসগুলো—যেমন: ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি (ULAB) রিসাইক্লিং, ভেজাল মশলা এবং সিসাযুক্ত ধাতব রান্নার তৈজসপত্র—চিহ্নিত করেন এবং সেগুলো সমাধানে কাজ করেন।

অংশগ্রহণকারী তরুণরা দিনব্যাপী বাস্তবসম্মত ও স্থানীয় নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন সমাধান তৈরি করেন। ‘কার মালিকানা, কে নিয়ন্ত্রণ করে, কে লাভবান হয়, কে ভোগ করে, কে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে’—এই ছয়টি প্রশ্নের একটি বিশেষ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তারা দূষণের পেছনের অন্তর্নিহিত বৈষম্যগুলো বিশ্লেষণ করেন।

দলীয় ও একক কাজের মাধ্যমে তরুণরা তাদের নিজস্ব কমিউনিটি-ভিত্তিক সমাধানের নকশা তৈরি করেন। এর মধ্যে পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পানি পরীক্ষা এবং তরুণদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘পিয়ার-এডুকেশন নেটওয়ার্ক’ তৈরির মতো বিষয়গুলো উঠে আসে। প্রতিটি ধারণা বা পিচ যেন বাস্তবসম্মত, স্থানীয়ভাবে মানানসই, সম্প্রসারণযোগ্য এবং কার্যকর হয়, তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।

দিনব্যাপী এই কর্মশালা শেষে সফলভাবে সম্পন্নকারী সকল তরুণকে ‘অংশগ্রহণ সনদ’ (Certificate of Participation) প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের উদ্ভাবিত এই ধারণাগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা হিসেবে জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমস্যা সমাধানে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এই আয়োজনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন সময় এই ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার।

Share This News