খুলনা মহানগরী কোল ঘেঁষে ময়ূর নদী বয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা,বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ বাধ দিয়ে মাছের ঘের এবং ব্যক্তিগত ব্যবসা করা নদীর জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি সহ নানাবিধ অন্যায় এবং অবহেলার মাধ্যমে দূষণের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে ময়ূর নদী। তীব্র গন্ধের কালো পচা পানি এবং দুর্গন্ধ ময়লা আবর্জনায় ভরে ওঠা সেই ময়ূর নদীতে আজ বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির আয়োজনে খুলনা দিবসকে কেন্দ্র করে খুলনায় আজ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রথম ভেলা বাইচ। নগরের নীতি নির্ধারণী মহল কে বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং খুলনাবাসীকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য উপভোগের জন্য প্রথম ভেলা বাইচ আয়োজন করা হয়।


খুলনা সিটি কর্পোরেশন,নগর সামাজির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নে একটি গবেষণামূলক আন্দোলন (সিয়াম), হেলদি সিটি ফোরাম, একটিভ সিটিজেন প্লাটফর্ম, আব্বাস উদ্দিন একাডেমি, বিডি ক্লিন সহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে এ আয়োজন করে। আজ বিকাল ৪:০০ টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, খুলনাকে বাঁচাতে হলে খুলনা কে সুস্থ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ময়ূর নদী বাঁচানোর বিকল্প নাই।

আমাদের সকলের সহযোগিতায় এই ময়ূর নদীকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে যাতে করে নগরবাসী চিত্ত বিনোদনের সুযোগ পায় নগর পর্যটন গড়ে ওঠে। যারা এই নদীতে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে বা অবৈধ বাধ দিয়েছে সকল বাঁধাকে উপড়ে ফেলতে হবে। উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ভেলা বাইচ এর আহবায়ক মোল্লা মারুক রশীদ এর সভাপতিত্বে ও মনিরুজ্জামান রহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি জনাব নিযামুর রহমান লালু,মহাসচিব এ্যাড.শেখ হাফিজুর রহমান, বেলা খুলনা প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান মুকুল, সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক ও হেলদিসিটি ফোরামের সদস্য সচিব এডভোকেট মোঃ মাসুম বিল্লাহ,আরাফাত আবাসিক শান্তি-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি আ:বারেক মোল্লা, অ্যাক্টিভ সিটিজেন প্লাটফর্মের সভাপতি শেখ ওমর ফারুক কচি প্রমূখ। ভেলা বাইচে মোট ১৬ টি দল অংশগ্রহণ করে। দুই রাউন্ডে বিজয়ীদের নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন মনিরুল, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন অহিদুল, তৃতীয় স্থান অধিকার আলামিন শেখ। বিজয়ী সকলেই তেরখাদা উপজেলা র। আয়োজন শেষে বিজয় দের মাঝে প্রধান অতিথি পুরস্কার বিতরণ করেন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কুয়েটের অধ্যাপক তুষার কান্তি রায়, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা এসকে তাছাদুজ্জামান, রোটারিয়ান আল জামাল ভূঁইয়া, এডভোকেট এসএম মারুফ আহম্মদ ।


খুলনার অধিকাংশ মিডিয়া আয়োজনে সহযোগিতা করেন এবং প্রায় কয়েক হাজার উৎসুক জনতা এ আয়োজন দেখতে ভীর করেন। সকলেই প্রত্যাশা করেন আগামী আয়োজনটি হবে দূষণমুক্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ময়ূর নদীতে। আয়োজনের সকল সংস্থার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।